অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন...

al-ihsan.net
বাংলা | English

দেশের খবর - ১৫ ফেব্রুয়ারী, ২০১৫
 
‘রোদেলা’ প্রকাশনীর ‘নবি মুহাম্মদের ২৩ বছর’ বইয়ে জঘন্য ইসলাম অবমাননা
দেশের ৯৮ ভাগ মুসলিম জনগোষ্ঠি ক্ষোভে উত্তাল ফাঁসির দাবিতে অনড় ॥ আসছে মহাতীব্র ও কঠোর কর্মসূচী
নিজস্ব প্রতিবেদক:

পবিত্র দ্বীন ইসলাম উনার অনুসারী মুসলমানগণ উনাদের পবিত্র ধর্মগ্রন্থ সম্মানিত কুরআন শরীফ উনাকে কাল্পনিক আবিষ্কার, সম্মানিত কুরআন শরীফ আখিরী রসূল নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ উনার জীবনের অভিজ্ঞতার প্রতিফলন, সম্মানিত কুরআন শরীফ উনার বিধি-বিধানে অসঙ্গতি রয়েছে ইত্যাদি ইত্যাদি জঘন্য ভাষায় আপত্তি তুলে ইসলামবিদ্বেষী কাফিরের অনুচর প্রকাশনা সংস্থা ‘রোদেলা’ প্রকাশ করেছে ‘নবি মুহাম্মদের ২৩ বছর’ গ্রন্থটি। (নাউযুবিল্লাহ!)
পৃথিবীর প্রায় সাড়ে তিনশ’ কোটি মুসলমানগণ উনাদের প্রাণপ্রিয় নবী, বিশ্ব মানবতার শান্তির দিশারী, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিইয়ীন, নূরে মজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি স্বঘোষিতভাবে মহান আল্লাহ পাক উনার প্রতিনিধি বা রসূল (নাউযুবিল্লাহ!) এবং উনার প্রতি নারীপ্রীতির অভিযোগ ও আপত্তি করেছে (নাউযুবিল্লাহ!) প্রকাশনাটির মুরতাদ কর্তৃপক্ষ।
জঘন্য বইটিতে পবিত্র করআন শরীফ ও হাদীছ শরীফ উনাদের মধ্যে বর্ণিত পবিত্র মি’রাজের ঘটনাকে কাল্পনিক বলে নানাভাবে ব্যঙ্গ করা হয়েছে। নাউযুবিল্লাহ! নাউযুবিল্লাহ! মহান আল্লাহ তায়ালা উনার অস্তিত্ব অস্বীকার করে নূরে মজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে ভ- হিসাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। নাউযুবিল্লাহ! নাউযুবিল্লাহ!
ইসলামবিদ্বেষী কাফিরের অনুচর হিসেবে বাংলাবাজারস্থ প্রকাশনা সংস্থা ‘রোদেলা’র মুরতাদ-মুনফিকরা এবারের (২০১৫ সালের) বই মেলায় ১৪১-১৪২ নং স্টলে ‘নবি মুহাম্মদের ২৩ বছর’ নামে জঘন্য বইটি বাজারে এনেছে। ইরানের নিষিদ্ধ ও মৃত্যুদ-প্রাপ্ত মুরতাদ-মুনাফিক লেখক আলি দস্তির ‘বিশত ও সেহ সাল’ বা টোয়েন্টি-থ্রি ইয়ার্স : অ্যা স্টাডি অব দ্য প্রফেটিক ক্যারিয়ার অব মুহাম্মদ’ নামক কুখ্যাত বইটি বাংলা অনুবাদ করেছে, এদেশীয় নাস্তিক্যবাদের পৃষ্ঠপোষক মুক্তমনা ব্লগের কুখ্যাত ব্লগার মুরতাদ-মুনাফিক আবুল কাসেম ও সৈকত চৌধুরী। বইটির পরতে পরতে পবিত্র দ্বীন ইসলাম, পবিত্র ধর্মগ্রন্থ সম্মানিত করআন শরীফ, নূরে মজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এবং হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনাদের পূত-পবিত্র চরিত্র নিয়ে জঘন্য কলঙ্ক লেপন ও ইসলাম অবমাননার চিত্র ফুটে উঠেছে। দীর্ঘ ২৮৮ পৃষ্ঠার গ্রন্থের কিছু উদ্ধৃতি ধর্মপ্রাণ ঈমানদার পাঠকের সামনে উপস্থাপন করছি।
নূরে মজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার কাছে মহান আল্লাহ তায়ালা উনার পক্ষ থেকে ওহী নয়; ভূত আসতো বলে অভিযোগ করেছে মুরতাদ-মুনাফিক আলি দস্তি; যা এদেশীয় মুরতাদ-মুনাফিক আবুল কাসেম ও সৈকত চৌধুরী অনুবাদ করে বাজারে ছেড়েছে। ইসলামবিদ্বেষী গ্রন্থের ২৩ পৃষ্ঠায় বলা হয়েছে, “যারা কুরআনের সাথে পরিচিত তারা জানেন যে, কুরআন হচ্ছে মুহাম্মদের নবি-জীবনের বিভিন্ন ঘটনা এবং অভিজ্ঞতার প্রতিফলন। কুরআন থেকেই বোঝা যায় নবি কখনও এই ধরনের বর্ণনা দেননি। এ-ধরনের উপকথা সাধারণের কাল্পনিক আবিষ্কার।” নাউযুবিল্লাহ! নাউযুবিল্লাহ!
মুরতাদ-মুনাফিকরা আরো লিখেছে, “তাই বলা যায়, দীর্ঘ দিন ধরে মরুভূমিতে একাকী সময় কাটানোর জন্য মুহাম্মদও এক সময় অন্তর্মুখী হয়ে পড়েন। ফলে আকস্মিকভাবে অনেক সময় তার ভূত দেখার অথবা সাগরের ঢেউয়ের শব্দ শোনার বিভ্রম হতো।” (পৃষ্ঠা: ২৯)। নাউযুবিল্লাহ! নাউযুবিল্লাহ!
শুধু তাই নয়; মহান আল্লাহ তায়ালা উনার প্রেরিত শেষনবী নূরে মজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে ‘স্বঘোষিত রসূল’ বলতেও কুণ্ঠাবোধ করেনি মুরতাদ-মুনাফিকরা। মুরতাদ-মুনাফিকরা গ্রন্থে লিখেছে, “সর্বদা এই ধরনের ব্যক্তিরা আর্বিভূত হয়েছেন, নবি বা রাসূল হিসাবে। অর্থাৎ তারা স্বঘোষিতভাবে ঈশ্বরের প্রতিনিধি দাবি করেছিলেন।” (পৃষ্ঠা: ৪০)। নাউযুবিল্লাহ! নাউযুবিল্লাহ!
পবিত্র কারআন শরীফ উনার মধ্যে বর্ণিত পবিত্র মি’রাজ শরীফ উনার বিশেষ কুদরতী ঘটনা প্রসঙ্গে মুরতাদ-মুনাফিকরা লিখেছে, “নবি সম্পর্কে অলীক কল্পনা কেমন করে দ্রুত প্রসার লাভ করেছিল তার একটা উদাহারণ দেয়া যেতে পারে- মেরাজের ঘটনা” মনগড়াভাবে ঘটনা বলা শেষে মুরতাদ-মুনাফিক লেখক বলেছে, “এই ধরনের আধ্যাত্মিক ভ্রমণ আরো অনেক ভাবতান্ত্রিক ব্যক্তিরও হয়েছে বলে শোনা যায়।” (পৃষ্ঠা: ২০) নাউযুবিল্লাহ! নাউযুবিল্লাহ!
মুরতাদ-মুনাফিকরা আরো লিখেছে, “মুহাম্মদের ভাবুক মনের দুর্নিবার যাতনার ফলস্বরূপ তিনি এক অশরীরি আত্মা বা দেবদূতের সাক্ষাৎ পান।” (পৃষ্ঠা: ৪২) নাউযুবিল্লাহ! নাউযুবিল্লাহ! “আদতে সমস্ত অলৌকিক ঘটনা অপ্রতিপাদনযোগ্য কল্পকাহিনী অথবা দৃষ্টিভ্রম।” (পৃষ্ঠা: ৪০) নাউযুবিল্লাহ! নাউযুবিল্লাহ!
নূরে মজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত নবী-রসূল হিসেবে প্রকাশ হওয়া, উনার প্রতি ওহী আসার প্রশ্ন তুলেও ক্ষান্ত হয়নি মুরতাদ-মুনাফিকরা। নিষিদ্ধ মুরতাদ-মুনাফিক লেখক ও এর অনুবাদক-প্রকাশক মুরতাদ-মুনাফিকরা মহান আল্লাহ পাক উনার সুমহান ওজুদ মুবারক তথা অস্তিত্ব মুবারকও অস্বীকার করেছে। ইউরোপীয় কাফির-নাস্তিকদের উদ্ধৃতি দিয়ে মুরতাদরা বলেছে, “কোনো কোনো ইউরোপীয় লেখক নিজস্ব ধর্মীয় বিশ্বাস দ্বারা প্রভাবিত হয়ে গবেষণার কাজকে স্তিমিত করে ফেলেছে। তারা মুহাম্মদকে একজন স্রেফ অভিযাত্রিক ও ভ- হিসাবে বর্ণনা করেছে। তাদের মতে কুরআন হচ্ছে ক্ষমতা লাভের একটি হাতিয়ার।” (পৃষ্ঠা: ৩৬) নাউযুবিল্লাহ! নাউযুবিল্লাহ! নাউযুবিল্লাহ!
মুরতাদ-মুনাফিকরা আরো লিখেছে, “ধর্মীয় প-িতদের অসার বক্তব্যগুলোর মধ্যে শ্রেষ্ঠ হচ্ছে ঈশ্বরের সৃষ্টি নিয়ে। তাদের বিশ্বাসের মূল ভিত্তি হচ্ছে যে, সৃষ্টিকর্তা এবং বিশ্বব্রহ্মা-ের পালনকর্তা নবি ও অবতার পাঠিয়ে থাকেন। এছাড়া ধর্মীয় প-িতরা মনে করেন, সৃষ্টিকর্তার দ্বারা সৃষ্টির আগে মহাবিশ্বের কোনো অস্তিত ছিল না। তিনি শূন্য হতে সব কিছু সৃষ্টি করেছেন। এ ধরনের দাবি যাচাই অযোগ্য।” (পৃষ্ঠা: ৩৯) নাউযুবিল্লাহ! নাউযুবিল্লাহ! নাউযুবিল্লাহ!
খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনার সুমহান ওজুদ মুবারক তথা অস্তিত্ব মুবারক অস্বীকার করে মুরতাদ-মুনাফিকরা আরো লিখেছে, “তাই বলা যেতে পারে যে- সৃষ্টি সূচনা পদার্থ থেকে নয়, বরং এক বস্তু থেকে অন্য বস্তুতে রূপান্তর। এই পরিস্থিতিতে সৃষ্টিকর্তার অস্তিতের পক্ষে যুক্তি দেখানো খুব কঠিন।” (পৃষ্ঠা: ৩৯) নাউযুবিল্লাহ! নাউযুবিল্লাহ! নাউযুবিল্লাহ!
সম্মানিত কুরআন শরীফ হলো মহান আল্লাহ পাক উনার নাযিলকৃত ঐশীগ্রন্থ। এর প্রতিটি বিধি-বিধান মানুষের কল্যাণের জন্য। চিরন্তন ও শ্বাশত গ্রন্থ সম্মানিত করআন শরীফ কোনো স্থান কাল, ভৌগোলিক সীমারেখার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। চিরকালীন সেই কুরআন শরীফ উনাকে বিচ্ছিন্ন ঘটনা নির্ভর ও অসঙ্গতি রয়েছে বলে আপত্তি করেছে মুরতাদ-মুনাফিক লেখক-অনুবাদক-প্রকাশকরা। মুরতাদ-মুনাফিকদের ভাষ্য হলো, “কোরানে অনেক আইন ও বিধি রয়েছে, যা মুহাম্মদকে ইসলামের আইনপ্রণেতা হিসাবে তুলে ধরে। যে বিষয়টি অবশ্যই মনে রাখা দরকার তা হলো, কোরানে বর্ণিত আইন-কানুন তৈরি হয়েছিল, বিচ্ছিন্ন ঘটনবালীর নিমিত্তে এবং নির্যাতিত মানুষের আবেদনের প্রেক্ষিতে। ফলে এই আইনগুলোর মাঝে কিছু অসঙ্গতি রয়েছে।” (পৃষ্ঠা: ৮৭) নাউযুবিল্লাহ! নাউযুবিল্লাহ! নাউযুবিল্লাহ!
‘নারী ও মুহাম্মদ’ অধ্যায়ে উত্তম চরিত্রের শ্রেষ্ঠ উপমা, জীবনপবিত্রতার চূড়ান্ত উদাহরণ হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনাদেরকে নিয়ে নানা কলঙ্কের বর্ণনা এনেছে মুরতাদ-মুনাফিকরা। উচ্চারণ ও প্রকাশ অযোগ্য বলে অনেক কিছু উল্লেখ করা যায়নি। মুরতাদ-মুনাফিকরা লিখেছে, “একজন সত্যিকারের নবি এতো বেশি সংখক স্ত্রী গ্রহণ করতে পারেন না।” (পৃষ্ঠা: ১৬৭) নাউযুবিল্লাহ! নাউযুবিল্লাহ! নাউযুবিল্লাহ!
মুরতাদ-মুনাফিকরা আরো লিখেছে, “নবি মুহাম্মদ অবশ্যই একজন মানুষ এবং প্রতিটি মানুষেরই দুর্বল দিক রয়েছে। যৌন চাহিদা মানুষের একটি আবশ্যিক প্রবৃত্তি এবং অন্যদের সম্পর্কে চিন্তা ও যোগাযোগের ক্ষেত্রে তা একটি গুরুত্ত্বপূর্ণ অনুষঙ্গ। মুহাম্মদের নারীপ্রতি কিংবা অনেক স্ত্রী গ্রহণের ঘটনা তার চূড়ান্ত লক্ষের প্রতি যাত্রাকে বাধাগ্রস্থ করেনি।” (পৃষ্ঠা: ১৬৮) নাউযুবিল্লাহ! নাউযুবিল্লাহ! নাউযুবিল্লাহ!
এই অধ্যায়ে পূত-পবিত্রা ও নারীকুলের আদর্শ, উম্মুল মু’মিনীন হযরত ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম ও উম্মুল মু’মিনীন হযরত যায়নাব বিনতে জাহাশ আলাইহাস সালাম উনাদেরসহ সকল হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনাদেরকে নিয়ে অশালীন ও অশ্রাব্য মতামত লেখা হয়েছে। নাউযুবিল্লাহ! নাউযুবিল্লাহ! নাউযুবিল্লাহ!
গ্রন্থের শেষে পবিত্র দ্বীন ইসলাম উনার অলৌকিতা মানে ওহী ও মু’জিযা উনাদেরকে মাদক ব্যবসা বলে আখ্যায়িত করে মুরতাদ-মুনাফিকরা লিখেছে, “অলৌকিক গল্প ছড়িয়ে দেয়া আসলে মাদকদ্রব্য ব্যবসার পর্যায়েই পড়ে। এই মাদকে আসক্ত নারী-পুরুষ উভয়েই যুক্তি চিন্তার ক্ষমতা হারিয়ে ফেলে। মুহাম্মদ তার নবি-জীবনে যা আয়ত্ত করেছেন, যা প্রচার করেছেন, যা প্রয়োগ করেছেন, তার সবই লোকেরা জানে। লোকেরা আরো জানে যে, তার ক্ষুধা পেত, তিনি খাবার খেতেন, এবং সাধারণ জনগণ যেভাবে তাদের সহজাত্য প্রবৃত্তির বশে চলে নবিও সেভাবে চলেছেন। তার চরিত্রকে অতিমানব হিসাবে দেখিয়ে, জনতাকে বিভ্রান্ত করা কোনো মতেই মানব জাতির জন্য মঙ্গলকর নয়।” নাউযুবিল্লাহ! নাউযুবিল্লাহ! নাউযুবিল্লাহ!
এদিকে রোদেলা প্রকাশনীর এই কুখ্যাত বই বিক্রির খবরে উত্তাল হয়ে উঠেছে দেশে ৯৮ ভাগ জনগোষ্ঠি সব মুসলমান। তারা কুখ্যাত প্রকাশক ও অনুবাদকের ফাঁসীর দাবি জানিয়েছে। ঈমানদার মুসলমান উনারা বিভিন্ন কঠোর কর্মসূসী বাস্তবায়নে তৎপর হচ্ছে।







For the satisfaction of Mamduh Hazrat Murshid Qeebla Mudda Jilluhul Aali
Site designed & developed by Muhammad Shohel Iqbal