অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন...

al-ihsan.net
বাংলা | English

দেশের খবর - ৩১ ডিসেম্বর, ২০১৪
 
‘পানি স্যানিটেশন ও স্বাস্থ্য খাতে সরকারের আচরণ পক্ষপাতমূলক’

ঢাকা: ২০০৬-০৭ অর্থবছরের তুলনায় চলতি বছর নিরাপদ পানি, স্বাস্থ্যসম্মত স্যানিটেশন ও স্বাস্থ্য আচরণবিধি খাতে সরকারের বরাদ্দ বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে তা রাজধানী ঢাকাসহ অন্যান্য বড় বড় মেট্রোপলিটন শহরে অতি উচ্চ মাত্রায় পক্ষপাতমূলক। চলতি অর্থবছরের ঢাকা ওয়াসা ৬৯৫ কোটি থেকে এক হাজার ৫৮০ কোটি টাকা, খুলনা ওয়াসা ৩৩১ কোটি থেকে ৫২৪ কোটি টাকা, চট্টগ্রাম ওয়াসা ৬০৪ কোটি থেকে ৭৬৫ কোটি টাকা বাজেট বৃদ্ধি পেয়েছে। যা গ্রাম ও শহরের মধ্যে নিরাপদ পানি, স্বাস্থ্যসম্মত স্যানিটেশন ও স্বাস্থ্য আচরণ বিধি খাতের বৈষম্য ব্যাপক হারে বৃদ্ধি করতে পারে।
গতকাল ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) সকালে রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে আয়োজিত ‘স্থানীয় সরকার বাজেট: পানি, স্যানিটেশন ও স্বাস্থ্য আচরণবিধি খাতে বরাদ্দ ও প্রত্যাশা’ শীর্ষক কর্মশালায় এসব কথা জানানো হয়। বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ওয়াটারএইড বাংলাদেশ ও ডরপ যৌথভাবে এ কর্মশালার আয়োজন করে।
কর্মশালায় ‘জাতীয় বাজেটে পানি, স্যানিটেশন ও স্বাস্থ্যবিধি খাত: একটি বিশ্লেষণ’ শীর্ষক ধারণাপত্র উপস্থাপন করেন ওয়াটারএইড বাংলাদেশের প্রধান নীতিনির্ধারক শামীম আহমেদ। তিনি বলেন, চলতি অর্থবছরে নিরাপদ পানি, স্বাস্থ্যসম্মত স্যানিটেশন ও স্বাস্থ্য আচরণবিধি খাতে ঢাকা ওয়াসায় ৩৮ দশমিক ৪১ শতাংশ, চট্টগ্রাম ওয়াসায় ১৮ দশমিক ৬০ শতাংশ ও খুলনা ওয়াসায় ১২ দশমিক ৭৪ শতাংশ বাজেট বরাদ্দ দেয়া হয়। মাত্র তিনটি বড় শহরের ওয়াসাকে এখাতে প্রায় ৭০ শতাংশ বাজেট বরাদ্ধ দেয়া হয়েছে। পুরো দেশের জন্য বরাদ্দ মাত্র ৩০ শতাংশ। সে ক্ষেত্রে হাওড়, চর, পাহাড়ী এলাকা ও গ্রামের প্রত্যন্ত অঞ্চলে এ বরাদ্দের পরিমাণ খুবই নগণ্য।
শামীম আহমেদ আরো বলেন, দেশের জনসাধারণের মধ্যে বেশিরখভাগই গ্রামে বাস করেন। সাধারণ মানুষের কাছে নিরাপদ পানি, স্বাস্থ্য আচরণবিধি পৌঁছে দিতে হলে গ্রাম পর্যায়ে বাজেটে বরাদ্ধের পরিমাণ আরো বাড়াতে হবে। এজন্য গ্রাম থেকে শুরু করে হাওড়, চর ও পাহাড়ী এলাকাসমূহের জন্য নিরাপদ পানি, স্বাস্থ্যসম্মত স্যানিটেশন ও স্বাস্থ্য পরিচর্যা খাতে পৃথক প্রকল্প গ্রহণ করা জরুরি হয়ে পড়েছে। এর মাধ্যমে গ্রাম ও শহরের বৈষম্য হ্রাস করা সম্ভব হবে বলে জানান তিনি।
‘স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের পানি ও স্যানিটেশন বাজেট পরিবীণ ও বিশ্লেষণ: উপজেলা অভিজ্ঞতা’ শীর্ষক অপর ধারণাপত্র উপস্থাপন করেন ডরপ এর প্রধান (গবেষণা, মূল্যায়ণ ও পরিবীক্ষণ) মোহাম্মদ যোবায়ের হাসান। তিনি বলেন, বাংলাদেশে প্রতি বছর স্যানিটেশন ও স্বাস্থ্যহানিজনিত রোগের চিকিৎসা বাবদ ২৯৫ কোটি ৫০ লাখ টাকা ক্ষতি হয়। অথচ এ খাতে সরকারের বরাদ্দের পরিমাণ একেবারেই কম। চলতি অর্থবছরের নিরাপদ পানি, স্বাস্থ্যসম্মত স্যানিটেশন ও স্বাস্থ্য আচরণ বিধি খাতে মোট বরাদ্দ চার হাজার ১১৩ কোটি টাকা। মাথাপিছু বরাদ্দ ২৬৪ টাকা।
যোবায়ের হাসান বলেন, নিরাপদ পানি ও স্যানিটেশন খাতের বরাদ্দের সবচেয়ে বড় অংশ সরকারের কাছে থেকে আসে। তবে এই বরাদ্দের বেশিরভাগই সাধারণ মানুষ পর্যন্ত পৌঁছে না। চলতি অর্থবছরের ছয় উপজেলার ২৪টির মধ্যে মাত্র পাঁচটি ইউনিয়নের বরাদ্দ পৌঁছেছে। এমন পরিস্থিতিতে গ্রাম পর্যায়ে নিরাপদ পানি ও স্যানিটেশনের উন্নয়নে বাজেটে বরাদ্দ বাড়ানো সময়ে দাবি।
২০২১ সালের মধ্যে দেশে শতভাগ সেনিটেশন:
স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মশিউর রহমান রাঙ্গাঁ বলেছেন, ২০২১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে শতভাগ সেনিটেশনের আওতায় আনতে সরকার নিরলস কাজ করে যাচ্ছে।
তিনি বলেন, দেশকে মধ্যম আয়ের দেশে পরিনত করার কর্মসূচির অংশ হিসাবে সরকার গ্রাম শহরের মধ্যে বিভিন্ন খাতে বিদ্যমান বৈষম্য কমিয়ে আনতেও অনেক কার্যকর পদক্ষেপ নিয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন এসব বাস্তবমুখী পদক্ষেপ বাস্তবায়নের মাধ্যমে ২০২১ সালের মধ্যে দেশকে একটি সুখী সমৃদ্ধ দেশে পরিনত করা সম্ভব হবে। তবে তিনি এ জন্য রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার প্রয়োজন বলে উল্লেখ করেন।
তিনি বলেন, হরতাল অবরোধসহ নেতিবাচক রাজনৈতিক কর্মসূচির কারণে দেশ বার বার পিছিয়ে যাচ্ছে। এ প্রেক্ষিতে তিনি ৫ জানুয়ারির নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দেশে সংঘটিত কর্মকান্ডের কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ওই সময়ের কর্মকান্ডের ফলে দেশের অনেক ক্ষতি হয়েছে। তিনি এ ধরনের কর্মসূচি থেকে বিরত থাকতে সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহবান জানান।
স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী বলেন, বিগত কয়েক বছরে দেশের পানি, স্যানিটেশন খাতে অনেক উন্নতি হয়েছে। এর বাইরেও এখনো এসব খাতে আরো অনেক উন্নতি করতে হবে। বিশেষ করে সারা দেশে শতভাগ স্যানিটেশন নিশ্চিত করতে সরকারের প্রচেষ্টা এবং উদ্যোগের পাশাপাশি বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থা ও ব্যাক্তিসহ সকলকে এগিয়ে আসতে হবে।
প্রতিমন্ত্রী রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন নগর ও শহরের স্যানিটেশন সমস্যার কথা তুলে ধরে বলেন, সরকার এ সব শহরে ভ্রাম্যমান টয়লেট স্থাপন করার কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। এতে এ সমস্যার সমাধান হবে।







For the satisfaction of Mamduh Hazrat Murshid Qeebla Mudda Jilluhul Aali
Site designed & developed by Muhammad Shohel Iqbal