অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন...

al-ihsan.net
বাংলা | English

দেশের খবর - ৬ মার্চ, ২০১৪
 
ভারতীয় স্বর্ণ চোরাকারবারীরা ব্যবহার করছে বাংলাদেশকে
নিজস্ব প্রতিবেদক:

সাম্প্রতিকালে স্বর্ণ চোরাচালান উল্লেখ্যযোগ্যহারে বেড়ে গেছে। ২০১৩ সালে আটক হয়েছে ৫৫০ কেজি স্বর্ণ, যার বাজার মূল্য ২৫০ কোটি টাকা। স্বর্ণ চোরাচালানের অতীতের সকল রেকর্ডই ভঙ্গ হয়েছে ২০১৩ সালে। দেশের স্বর্ণ ব্যবসায়ীরা বলছেন, ভারতের বাজারে স্বর্ণের দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়ায় স্বর্ণ চোরাচালান করছে পাচারকারীরা। প্রতিদিনই বিভিন্ন বন্দর দিয়ে চোরাইপথে স্বর্ণ আসছে যা আবার বিভিন্ন পথে ভারত চলে যাচ্ছে। ২০১২ সালের শেষের দিকে ভারতীয় সরকার স্বর্ণ আমদানিতে ১০ শতাংশ কর আরোপ করে। এতে ভারত ঘাটতি কমাতে সক্ষম হলেও প্রতিবেশি দেশগুলোকে তার খেসারত দিতে হচ্ছে। এর ফলে বাংলাদেশ, পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কায় স্বর্ণ চোরাচালান বেড়ে গেছে। এজন্য তিনটি দেশের কাস্টম বিভাগ ভারতের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগও করেছে।
অভিযোগে বলা হয়, ভারতের প্রতিবেশি সবক’টি দেশেই সোনা আমদানিতে শুল্কহার অনেক কম। তাই এ সুবিধা নিয়ে প্রতিবেশি দেশ থেকে ভারতীয় ব্যবসায়ী ও চোরাকারবারিরা স্বর্ণ আমদানি করছে। পরে সুবিধাজনক সময়ে তা ভারতে পাচার করছে। চোরাচালান ঠেকাতে ভারতের কাছে সর্বোচ্চ সহায়তা ও পরামর্শ চেয়েছে তিনটি দেশ। স্বর্ণ চোরাচালান ঠেকাতে সম্প্রতি বাধ্য হয়েই শ্রীলঙ্কা স্বর্ণ আমদানিতে ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছে। আর পাকিস্তান ছয় মাসে দু’বার সোনা আমদানি নিষিদ্ধ করেছে।
স্বর্ণ ব্যবসায়ীরা বলছেন, দেশের স্বর্ণের চাহিদার অর্ধেকেরও বেশি আসে অবৈধ পথে। তবে বর্তমানে যেসব চোরাচালানের ঘটনাগুলো ঘটছে সেইসব স্বর্ণ দেশের বাজারে ব্যবহার হচ্ছে না। অতীতের যেকোনো সময়ের তুলনায় বেশি স্বর্ণ চোরাচালন কেন হচ্ছে তা সরকারকেই খতিয়ে দেখতে হবে। ব্যবসায়ীরা বলছেন, যে চোরাচালানের দ্বারা দেশের রাজস্ব ও স্বর্ণ ব্যবসায়ীরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে সেটি কাদের স্বার্থে এবং কারা করছে তা গভীরভাবে দেখা উচিত।
ব্যবসায়ীরা বলছেন, অধিকাংশ চোরাচালান ধরা পড়ে না। ঢাকা কাস্টম হাউস, শুল্ক গোয়েন্দা ও পুলিশের দেয়া তথ্যমতে ২০১৩ সালে ৫৫০ কেজি স্বর্ণ আটক করা হলেও কি পরিমাণ স্বর্ণ পাচার হয়েছে তার হিসাব কেউ জানে না। যেসব চালান ধরা পড়ছে তার সবই বিমানবন্দর দিয়ে পাচারের সময়ের ঘটনা। কিন্তু সীমান্তপথে কোন স্বর্ণ চোরাচালানের আটকের ঘটনা এখনো জানা যায়নি।
প্রতিষ্ঠিত স্বর্ণ ব্যবসায়ীরা মনে করেন, স্বর্ণ চোরাচালানের সাথে বিমানবন্দরের নিরাপত্তা বিভাগ, বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার কিছু অসাধু কর্মকর্তা ও ক্ষমতাসীন দলের প্রভাবশালী নেতাদের যোগসাজশ রয়েছে। নিজেদের মধ্যে কমিশনে বনিবনা না হলেই ধরা পড়ছে চালান। কিন্তু সমঝোতায় প্রতিদিনই বিপুল পরিমাণ স্বর্ণ বিমানবন্দর থেকে নিরাপদে পাচার হয়ে যাচ্ছে। চক্রের মূল হোতারা সিঙ্গাপুর, দুবাই, পাকিস্তান ও ভারতে বসেই চোরাচালান ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করছে।
গোয়েন্দা পুলিশের অতিরিক্ত উপকমিশনার (উত্তর) মাহফুজুল ইসলাম এসম্পর্কে সাংবাদিকদের বলেন, বিমানবন্দরে সিভিল এভিয়েশন ও কাস্টমস কর্মকর্তাদের অনুমতি ছাড়া কোনো ব্যক্তিকে সন্দেহ করে তল্লাশি কিংবা গ্রেফতার করতে পারে না পুলিশ। তাছাড়া চোরাচালান পণ্য ধরা পড়লে কাস্টম কর্তৃপক্ষ মামলা করবে। তারা মামলা না করলে পুলিশ তদন্ত করতে পারে না।







For the satisfaction of Mamduh Hazrat Murshid Qeebla Mudda Jilluhul Aali
Site designed & developed by Muhammad Shohel Iqbal