অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন...

al-ihsan.net
বাংলা | English

দেশের খবর - ৮ আগস্ট, ২০১২
 
কেউই নিচ্ছে না সাবেক রাষ্ট্রপতিদের খোঁজ
আল ইহসান ডেস্ক:

কেউই নিচ্ছে না সাবেক রাষ্ট্রপতিদের খোঁজ। তারা কে কোথায় কেমন আছেন তা জানার আগ্রহটাই যেন মরে মরে গেছে সবার। কাছে নেই আত্মীয়-স্বজন, বন্ধু-বান্ধব, আপন মানুষ। দূরে সরে গেছে এক সময়কার ঘনিষ্ঠ সহচর, রাজনৈতিক আর কর্মক্ষেত্রের সঙ্গীরাও। রাষ্ট্রপ্রধানের দায়িত্বে থাকাকালে যারা ছিলেন সারা দেশ ও গোটা জাতির মনোযোগের কেন্দ্রে, তাদের নামই যেন আর মনে নেই কারও। নিত্যদিনের সংবাদ হয়ে থাকা এসব রাষ্টপ্রধানের প্রতি এখন আর সংবাদমাধ্যমগুলোরও বিশেষ কোনো আগ্রহ নেই। চলতি রমযানের ইফতার মাহফিলেগুলোতে বড়-ছোট সব দলের নেতাদের নিয়মিত দেখা মিললেও সাবেক রাষ্ট্রপতিদের মধ্যে বর্তমানে জীবিত পাঁচজনের তিনজনকে কোথাওই দেখা যাচ্ছে না। এরা হলেন- প্রবীণ রাজনীতিবিদ অ্যাডভোকেট আবদুর রহমান বিশ্বাস, বিচারক সাহাবুদ্দীন আহমদ ও ড. ইয়াজউদ্দিন আহম্মেদ।
বিশেষ প্রয়োজন ছাড়া বাইরের কারও সঙ্গে খুব একটা কথাও বলেন না এই তিন সাবেক রাষ্ট্রপতি। একে তো তাদের ব্যাপারে আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছে সংবাদমাধ্যম, বিপরীতে তারা নিজেরাও যেন মিডিয়া এড়িয়ে চলার নীতি নিয়েছেন। তবে অপর দুই সাবেক রাষ্ট্রপতি তাদের কাঙ্খিত সম্মান না পেলেও গলার জোরে টিকে আছেন রাজনীতির মাঠে। মাঝেমধ্যে মিডিয়ার তাদের খবর হতে দেখা গেলেও খুব বেশি গুরুত্ব পাচ্ছেন না কেউই। এদের একজন জাতীয় পার্টি (জাপা) চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ। মাঝেমধ্যেই আগামী নির্বাচনে এককভাবে অংশ নেয়ার আওয়াজ দিলেও মূলত তিনি এখন আওয়ামী লীগের বি-টিম হিসেবেই মাঠ দাবড়াচ্ছেন বলে সংশ্লিষ্ট মহলগুলোতে আলোচনা আছে। বিভিন্ন সময়ে তিনি নানা কথা বলে আলোচনায় থাকলেও সাবেক রাষ্ট্রপতি হিসেবে তার প্রাপ্য সম্মান যথার্থ নয়। অন্যজন বিকল্পধারা বাংলাদেশের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. একিউএম বদরুদ্দোজা চৌধুরী নতুন দল গঠন করে হালে পানি না পেয়ে রাজনীতির চেয়ে চিকিৎসায় মনোযোগী হয়ে উঠেছিলেন।
তবে রাজনীতিতে টিকে থাকার প্রয়োজনে তিনি এখন বিএনপি’র সঙ্গে গাঁটছড়া বাঁধার জোর প্রচেষ্টা চালাচ্ছেন। যে বিএনপি তাকে মসনদ থেকে রাজপথে ফেলে দিয়েছিল তাদের সঙ্গে সখ্য গড়ে নিজের গুরুত্ব বাড়ানোর তার এ প্রাণান্ত চেষ্টা সংশ্লিষ্ট মহলগুলোতে নানা বিতর্কেরও জন্ম দিচ্ছে। বিএনপির সাম্প্রতিক অনুষ্ঠানগুলোতে হাসিমুখে যোগ দিচ্ছেন বি. চৌধুরী। তার অনুষ্ঠানে অতিথি হয়ে আসছেন খালেদা জিয়াসহ বিএনপির হেভীওয়েট নেতারা।
স্বৈরশাসকের তকমার কারণে বিব্রত এরশাদ :
১৯৮৩ সালের ১১ ডিসেম্বর প্রথমবারের মতো রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নেন এরশাদ। টানা ৯ বছর দেশের প্রধান দুই রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগ ও বিএনপিসহ সবাইকে উপেক্ষা করে দোর্দ- দাপটে টানা ৯ বছর রাষ্ট্র চালান তিনি। অবশেষে ১৯৯০ সালের ৬ ডিসেম্বর পদত্যাগ করতে বাধ্য হন। সম্প্রতি মৃত্যুর আগে আরও একবার রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হওয়ার আগ্রহ জেগেছে তার। তাই মহাজোটের অন্যতম শরিক হয়েও পরবর্তী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এককভাবে অংশ নেয়ার আশায় দেশের এ প্রান্ত থেকে ওপ্রান্ত পর্যন্ত ছুটে বেড়াচ্ছেন তিনি।
তবে মামলার রশিতে ক্ষমতাসীনদের হাতেই ভাগ্য ঝুলছে তার। বিএনপি না এলে পরবর্তী নির্বাচনে তিনিই হতে পারেন আওয়ামী লীগের তুরুপের তাস, লোক দেখানো বিরোধী দলের নেতা। এজন্য তার নামে জুড়ে দেয়া স্বৈরশাসকের তকমা ঝেড়ে ফেলতে নানা দেনদরবারও চালাচ্ছেন সাবেক এই সেনানায়ক। ‘স্বৈরাচার’ আখ্যা নিয়ে সংসদে নিজের অসন্তোষের কথাও জানিয়েছেন তিনি।
ছেলের মৃত্যুর পর থেকে অন্তরালে আব্দুর রহমান বিশ্বাস :
১৯৭৯ সালের সংসদ নির্বাচনে বরিশাল সদর আসন থেকে প্রথমবারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন অ্যাডভোকেট আবদুর রহমান বিশ্বাস। ১৯৯১ সালের সংসদ নির্বাচনে একই আসন থেকে ফের সংসদ সদস্য নির্বাচিত তিনি। সেবার বিএনপি সরকার গঠন করলে তাকে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত করে বিএনপি। রাষ্ট্রপতি থাকাকালেই ১৯৯৫ সালের এক সেনা ক্যু ঠেকিয়ে ক্ষমতাসীন বিএনপি ও দেশবাসীর কাছে যথেষ্ট প্রশংসা কুড়ান আব্দুর রহমান বিশ্বাস। তিনি রাষ্ট্রপতি পদ ছাড়ার আগেই তার নির্বাচনী আসন থেকে বড় ছেলে এহতেশামুল হক নাসিম ১৯৯৬ সালে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯৯৮ সালের ১২ মার্চ ঢাকায় এক বিয়ের দাওয়াতে খাবারের বিষক্রিয়ায় মারা যান নাসিম। এ ঘটনায় মানসিকভাবে ভেঙ্গে পড়েন আব্দুর রহমান বিশ্বাস।
রাষ্ট্রপতি ছাড়াও মন্ত্রীর দায়িত্ব পালনকারী আব্দুর রহমান বিশ্বাস রাষ্ট্রপতির পদ ছাড়ার পর আর রাজনীতিতে ফেরেননি। এখন ঢাকার গুলশানের বাসায় কোরআন শরিফ তিলাওয়াত, আল্লাহর জিকির ও মর্নিং ওর্য়াক করে দিন কাটে আবদুর রহমান বিশ্বাসের। বরিশাল শহরে তার পৈতৃক বাড়িতে কেয়ারটেকার ছাড়া এখন আর কেউ থাকে না। দীর্ঘদিন ধরে তিনি সেখানে যাওয়াও বন্ধ করে দিয়েছেন।
নিরাপত্তাকর্মী বেষ্টিত হয়ে হাঁটতে বের হন সাহাবুদ্দীন :
বিচারক সাহাবুদ্দীন আহমদ ২০০১ সালে রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি নেয়ার পর সব ধরনের রাজনৈতিক কমকা- থেকে নিজেকে গুটিয়ে নেন। বর্তমানে গণমাধ্যমে তার উপস্থিতি নেই বললেই চলে। গুলশানের এক বিলাসবহুল অ্যাপার্টমেন্টে তিনি সপরিবারে বসবাস করছেন। স্ত্রী আনোয়ারা বেগম, দুই ছেলে, দুই মেয়ে ও নাতি-নাতনীদের নিয়ে দিন কাটছে তার। বাসায় তিনি বই পড়ে ও পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে গল্প করে সময় কাটান। সকালে গুলশান লেক পার্কে নিয়মিত হাঁটতে বের হন নিরাপত্তাকর্মী বেষ্টিত হয়ে। শারীরিকভাবে এখনও বেশ সুস্থ আছেন সাহাবুদ্দীন আহমদ।
নিজের আসন ধরে রাখতে চান বি. চৌধুরী :
অধ্যাপক বদরুদ্দোজা চৌধুরী রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নেন ২০০১ সালের ১৪ নভেম্বর। দলীয় অসন্তোষের মুখে ২০০২ সালের ২১ জুন পদত্যাগ করেন তিনি। অভিমানে বিএনপি ছেড়ে রাজনীতিতে বিকল্প একটি মঞ্চ তৈরির প্রতিশ্রুতি নিয়ে প্রতিষ্ঠা করেন বিকল্পধারা বাংলাদেশ নামে এক রাজনৈতিক সংগঠন। কিন্ত ২০০৮ সালের নির্বাচনে সব ক’টি আসনে পরাজয়ের কারণে দলীয় পদ থেকে সরে দাঁড়ান সাবেক এই রাষ্ট্রপতি।
দলীয়ভাবে তার পদত্যাগপত্র গৃহীত না হলেও পরবর্তীতে আর মাথা তুলে দাঁড়াতে পারেননি বি. চৌধুরী বা তার দল। এ পরিস্থিতিতে চিকিৎসা পেশায় মনোযোগী হয়ে উঠেন তিনি। উত্তরায় নিজের প্রতিষ্ঠিত হাসপাতালে প্রতি সোমবার বসেন বি. চৌধুরী। কেসি মেমোরিয়ালে বসেন শনি ও বুধবার। সপ্তাহের বাকি দিনগুলোতে গুলশানে নিজ বাসায় রোগী দেখেন। সাংবাদিকদের সঙ্গেও খুব একটা কথা বলেন না এখন। রাজনীতিতে নিজের গুরুত্ব বাড়াতে নতুন করে বিএনপির সঙ্গে সর্ম্পক গড়ছেন অধ্যাপক বদরুদ্দোজা চৌধুরী। এক্ষেত্রে নিদেনপক্ষে তিনি মুন্সীগঞ্জে তার আসনটি ধরে রাখার কৌশল নিয়েছেন।
ড. ইয়াজউদ্দিনকে বিশ্বাসঘাতক মনে করে বিএনপি :
বিএনপি-জামাত জোট সরকারে আলোচনার কেন্দ্রে ছিলেন দীর্ঘ সময় রাষ্ট্রপতির দায়িত্বে থাকা ড. ইয়াজউদ্দিন আহম্মেদ। চারদলীয় জোট সরকার মনোনীত এ রাষ্ট্রপতি তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টা পদে নিজেই শপথ নিয়ে বিতর্কের সূত্রপাত ঘটান। এর ফলে অস্থির হয়ে উঠা পরিস্থিতি সামাল দিতে ২০০৭ সালের ১১ জানুয়ারি জরুরি অবস্থা জারি করেন তিনি। দেশের পরিস্থিতি নাজুক হয়ে পড়ার দায় এখনও তার ওপরই বর্তান অনেকে।
ড. ইয়াজউদ্দিন বর্তমানে গুলশানে নিজ বাড়িতে অবস্থান করছেন। বয়সের ভারে তিনি অনেকটাই ন্যুজ। বই পড়েই সময় কাটে তার। বাড়ি থেকে বের হন না বললেই চলে। বিএনপি তাকে রাষ্ট্রপতি বানালেও এ দলটি এখন তাকে বিশ্বাসঘাতক বলে অভিহিত করে।







For the satisfaction of Mamduh Hazrat Murshid Qeebla Mudda Jilluhul Aali
Site designed & developed by Muhammad Shohel Iqbal