অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন...

al-ihsan.net
বাংলা | English

বিশেষ প্রতিবেদন - ২২ নভেম্বর, ২০১০
 
ফিরে দেখা ইতিহাস: ঘাতক রাজাকার, আল-বাদর মওদুদী জামাতী, দেওবন্দী খারিজী, ওহাবী সালাফীদের দিনলিপি।
১৭ নভেম্বর ১৯৭১ ঈসায়ী

আল ইহসান ডেস্ক: মিয়া মমতাজ দৌলতানা জাতীয় ঐক্য বিনষ্টকারীদের বিরুদ্ধে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে এদিন বলে যে, পাকিস্তান অর্জনের লক্ষ্যে মুসলমানরা যে চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে সংগ্রাম করেছে, সেই চেতনায়ই পাকিস্তানবাদী ৭টি দল ঐক্যবদ্ধ হয়েছে। তারা জীবন দিয়ে পাকিস্তান টিকিয়ে রাখতে কাজ করে যাবে। পাকিস্তানের দেশপ্রেমিক জনগণও তাদের সঙ্গে রয়েছে।
জেনারেল নিয়াজী এদিন লালমনিরহাট সফর করেন। তিনি সামরিক বাহিনীর সদস্যদের সঙ্গে ঘরোয়াভাবে আলোচনা করে শত্রু (মুক্তিযোদ্ধা) নিধনের প্রয়োজনীয় নির্দেশ দেন। সফরকালে স্থানীয় রাজাকার, আল-বাদর ও পূর্ব-পাকিস্তান বেসামরিক সশস্ত্র বাহিনীর সঙ্গেও তিনি আলোচনা করেন। নিয়াজীর সঙ্গে আলোচনার সময় রাজাকার ও আল-বাদররা পাকিস্তানের শত্রুরা সম্পূর্ণভাবে নিশ্চিহ্ন না হওয়া পর্যন্ত যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার দৃঢ়তা প্রকাশ করে।
রাজাকার বাহিনীর সদস্যদের সঙ্গে বৈঠকে মিলিত হয়ে নড়াইল মহকুমা শান্তিকমিটির চেয়ারম্যান মাওলানা সোলায়মান তাদেরকে নিষ্ঠার সঙ্গে শত্রু মোকাবেলার নির্দেশ দেয়। সে পাজারখালী ক্যাম্পর রাজাকারদের উদ্দেশ্যে বলেছিলো, রাজাকারদের একমাত্র লক্ষ্য হচ্ছে জিহাদ। আর সেই জিহাদী চেতনা দেশপ্রেমিক রাজাকারদের মধ্যে রয়েছে বলে সে রাজাকারদের উৎসাহ দেয়।
এ সময় বরিশাল, পটুয়াখালী, নোয়াখালী, টাঙ্গাইল, ঢাকা, নরসিংদী, সিলেট, ফরিদপুর, যশোরসহ দেশের সর্বত্র মহামারী আকারে কলেরা দেখা দেয়। কলেরায় লোক মারা যাওয়ার দায় মুক্তিযোদ্ধাদের উপর চাপিয়ে বলা হয় ‘পর্যাপ্ত চিকিৎসা ব্যবস্থা থাকা সত্ত্বেও দুষ্কৃতকারীদের কারণে চিকিৎসা কর্মীরা আক্রান্ত এলাকায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে পারছে না। ফলে মারা যাচ্ছে অসংখ্য মানুষ।
সান্ধ্য আইন জারি করে এদিন ঢাকা শহর থেকে দুষ্কৃতকারী হিসেবে চিহ্নিত করে ১শ’ ৩৮ জন নিরীহ জনসাধারণকে আটক করা হয়। শহর থেকে দুষ্কৃতকারী নির্মূলের দাবির প্রেক্ষিতেই সান্ধ্য আইন জারি করা হয় বলে সরকারি ঘোষণায় বলা হয়। কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়, জনগণ দুষ্কৃতকারীদের নাশকতামূলক তৎপরতায় অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে। বিপণিকেন্দ্রে, মসজিদে সাধারণ নাগরিকরা নির্বিচার হত্যার শিকারে পরিণত হচ্ছে। দুষ্কৃতকারীদের হাত থেকে কিন্ডার গার্টেনের শিশু এবং গার্লস স্কুলের ছাত্রীরা ও রেহাই পাচ্ছে না।
সরকারি হ্যান্ড আউট থেকে জানা যায়, জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে পাকিস্তানি দলের নেতা মাহমুদ আলী জাতিসংঘে চীনের অন্তর্ভুক্তিতে চীনা প্রতিনিধিদের অভিনন্দন জানিয়ে বলে যে, জাতিসংঘের যে সব লক্ষ্য এখনও অর্জিত হয়নি, চীনের অন্তর্ভুক্তির ফলে সে সব লক্ষ্য অর্জনের চেষ্টা জোরদার হবে।
(তথ্যসূত্র: দৈনিক পাকিস্তান, ধর্মব্যবসায়ী জামাতে মওদুদীর মুখপত্র দৈনিক সংগ্রাম ১৯৭১ ঈস্‌য়ী; একাত্তরের ঘাতক দালালরা যা বলেছে, করেছে।)







Site designed & developed
For the satisfaction of Mamduh Hazrat Murshid Qeebla Alaihis Salam