অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন...

al-ihsan.net
বাংলা | English

ইসলামিক শিক্ষা - ২৯ মে, ২০১২
 
সুলতানুল হিন্দ, গরীবে নেওয়াজ, হাবীবুল্লাহ হযরত খাজা মঈনুদ্দীন হাসান চিশতী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার ফাযায়িল-ফযীলত
-মাওলানা সাইয়্যিদ আব্দুল্লাহ উফিয়া আনহু

মহান আল্লাহ পাক তিনি কুরআন শরীফ-এ ইরশাদ করেন- “আল্লাহ পাক তিনি যাকে ইচ্ছা তাঁকেই উনার খাছ বান্দা হিসেবে মনোনীত করে থাকেন।” (সূরা শুরা : আয়াত শরীফ ১৩)
উক্ত আয়াত শরীফ-এ যাঁদের কথা বলা হয়েছে উনারা হচ্ছেন মনোনীত ওলীআল্লাহ তথা আল্লাহ পাক উনার পক্ষ থেকে নির্দিষ্ট। হযরত খাজা মুঈনুদ্দীন চিশতী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি সেই উচুঁ স্তরের ওলীআল্লাহ। উনাদের সম্পর্কে মহান আল্লাহ পাক কুরআন শরীফ-এর অন্যত্র ইরশাদ করেন “সাবধান! নিশ্চয়ই যারা মহান আল্লাহ পাক উনার ওলী উনাদের কোন ভয় নেই এবং চিন্তা-পেরেশানী নেই।” (সূরা ইউনুস : আয়াত শরীফ ৬২)
অর্থাৎ যারা মহান আল্লাহ পাক উনার খালিছ ওলী হয়ে থাকেন মূলত উনাদের কোন প্রকার চিন্তা পেরেশানী থাকে না উনারা কোন মাখলুকাতকে ভয় পাননা, কোন রাজা-বাদশা, আমীর উমরাহকে ভয় পান না উনারা শুধুমাত্র আল্লাহ পাক উনাকেই ভয় করে থাকেন। হযরত খাজা মুঈনুদ্দীন চিশতী সানজেরী আজমেরী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার পবিত্র জীবনী মুবারক-এ এর অসংখ্য মেছাল রয়ে গেছে।
একবার তিনি এক এলাকা দিয়ে সফর করছিলেন এমন সময় দেখতে পেলেন পথিমধ্যে একটি হুজরা শরীফ দেখা যাচ্ছে। সেই হুজরা শরীফ-এর দরজা খোলা রয়েছে। সেই ঘরের ভিতরে একজন আল্লাহ পাক উনার ওলী বসে রয়েছেন হযরত গরীবে নেওয়াজ হাবীবুল্লাহ রহমতুল্লাহি উনার দিকে সেই ওলীআল্লাহ তিনি তাকালেন এবং উনাকে হাত দিয়ে ইশারা করে ডাক দিলে হযরত খাজা ছাহেব রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি হুজরা শরীফ-এর ভিতরে ঢুকার পূর্বে দেখতে পেলেন হুজরা শরীফ-এর দু’দিকে দুটি বাঘ বসে রয়েছে। তিনি ফিকির করলেন নিশ্চয়ই বাঘ দু’টি আল্লাহ পাক উনার ওলী উনার খাদিম হবে। এরপর তিনি ঘরের ভিতরে প্রবেশ করলেন। যখন তিনি ভিতরে প্রবেশ করলেন তখন সেই আল্লাহ পাক উনার ওলী বললেন, হে বাবা! আপনাকে দেখে মনে হচ্ছে আপনি মহান আল্লাহ পাক উনার ও উনার হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের সন্তুষ্টি হাছিলের লক্ষ্যে মশগুল রয়েছেন। তাহলে আপনি দুটি নছীহত সব সময় মনে রাখবেন যা আপনার জীবনে কাজে লাগবে।
প্রথম নম্বর হচ্ছে, আপনি মহান আল্লাহ পাক উনাকে ছাড়া কোনো মাখলুকাতকে ভয় করবেন না, একমাত্র মহান আল্লাহ পাক উনাকেই ভয় করবেন। দ্বিতীয়টি হচ্ছে, মহান আল্লাহ পাক উনার কাছেই সমস্ত কিছু চাবেন বেশি বেশি আরজি ও দোয়া করবেন। হাদীছ শরীফ-এ রয়েছে “যে চায় সে পায়” আর যে চায় না সে কি করে নিয়ামত পেতে পারে। হযরত গরীবে নেওয়াজ খাজা হাবীবুল্লাহ রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন, এই দুটি নছীহত মুবারক আমার অনেক কাজে লেগেছে। সুবহানাল্লাহ! উনার জীবনী মুবারকে বর্ণিত রয়েছে, তিনি যখন মহান আল্লাহ পাক উনার হাবীব হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নির্দেশক্রমে হিন্দুস্থানে তাশরীফ আনলেন তখন হিন্দুস্থানের রাজা ছিল পৃথ্বীরাজ। ওই মুহূর্তে হিন্দুস্থানের প্রায় সমস্ত মানুষই ছিল বিধর্মী। কিন্তু হযরত খাজা হাবীবুল্লাহ রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি ওই সমস্ত বিধর্মীদেরকে ভয় পাননি। একাই সমস্ত বাতিল, কুফরী, শিরকী, সমূলে মূলোৎপাটন করে গোটা হিন্দুস্থানে ইসলাম জারি করলেন এবং এক কোটিরও বেশি বিধর্মী উনার মুবারক হাতে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে খাঁটি মুসলমান হয়ে যায়। সুবহানাল্লাহ!
স্মরণীয় যে, হযরত খাজা হাবীবুল্লাহ রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার ফাযায়িল-ফযীলত বেমেছাল। এমন ব্যক্তিত্ব যাকে মহান আল্লাহ পাক তিনি উনার হাবীব হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনারা স্বয়ং লক্বব মুবারক দিয়েছেন ‘ইয়া কুতুবাল হিন্দ, ইয়া কুতুবাল মাশায়িখ’। উনার বিছাল শরীফ-এর পর উনার কপাল মুবারকে কুদরতীভাবে লিখা উঠেছিলো “হাযা হাবীবুল্লাহ মাতা ফি হুব্বিল্লাহ” অর্থাৎ তিনি মহান আল্লাহ পাক উনার হাবীব, মহান আল্লাহ পাক উনার মুহব্বতে বিছাল শরীফ লাভ করেছেন। সুবহানাল্লাহ!







For the satisfaction of Mamduh Hazrat Murshid Qeebla Mudda Jilluhul Aali
Site designed & developed by Muhammad Shohel Iqbal